রেগুলার মূল্য ১০০০ টাকা। অফার মূল্য ৫০০ টাকা। সরিষা ফুলের র মধুতে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশী থাকার কারণে এই মধু শীতে জমে যায় । এজন্য এই মধুকে ক্রিম হানি বা জমা মধু বলা হয়। এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং ছোট থেকে বৃদ্ধ সকলেই খেতে পারে। এই মধু সম্পূর্ণ কোলেস্টেরলমুক্ত এবং এতে রয়েছে ভিটামিন এ,বি,সি। এই মধু রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি, হার্ট শক্তিশালী, কোষ্ঠকাঠিন্য ও অনিদ্রা দূর করে। শারীরিক দুর্বলতা দূরসহ পাকস্থলি সুস্থ রাখে।
মধুতে বিদ্যমান প্রায় ৪৫টি খাদ্য উপাদানের এই প্রধান চার উপাদান হলো সুগার। এর মধ্যে মধুতে গ্লুকোজের পরিমাণ প্রায় ২৫ থেকে ৩৭ শতাংশ এবং ফ্রুক্টোজের পরিমাণ প্রায় ৩৪ থেকে ৪৩ শতাংশ। এগুলোর গড় মান হিসাব করলে দেখা যাবে যে, মধুতে ৭০ শতাংশই হল গ্লুকোজ এবং ফ্রুক্টোজ। আর বাকি ৩০ শতাংশ এর মধ্যে ১৮-২৫ শতাংশ পানি বা আর্দ্রতা এবং বাকি অংশে এ্যামাইনো এসিড সহ বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদানসমূহ বিদ্যমান থাকে।
এই উপাদানসমূহের প্রধান দুইটি গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ যার মধ্যে গ্লুকোজ খুব সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয় না যেখানে ফ্রুক্টোজ পানিতে খুব সহজে দ্রবীভুত হয় (মিশে যায়)। তাই প্রাকৃতিক মধুতে ফ্রুক্টোজের চেয়ে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশী থাকলে মধুটি দ্রুত জমে যায় এবং ফ্রুক্টোজ বেশী থাকলে মধু জমতে দেরী হয়।
মধু জমে যাওয়ার কারণঃ মধুর জমা মূলত নির্ভর করে মধুতে বিদ্যমান আর্দ্রতা(ঘনত্ব), তাপমাত্রা এবং উৎসের উপর। একই সঙ্গে মধুতে বিদ্যমান গ্লুকোজের পরিমাণের ওপরও এটা নির্ভর করে। যেসব মধুতে গ্লুকোজ বেশি থাকে সাধারণত সেইসব মধু দ্রুত জমে যায়। কম আর্দ্রতায় ও কম তাপমাত্রায়ও মধুতে থাকা গ্লুকোজ দ্রুত জমে যায়।
প্রাকৃতিক ভাবে যে মধুতে গ্লুকোজের পরিমাণ বেশি যেমনঃ সরিষা ফুলের মধু, ধনিয়া ফু অনলের মধু, লিচু ফুলের মধু দ্রুত জমে যায়। অন্যদিকে প্রাকৃতিক ভাবে যে মধুতে গ্লুকোজের পরিমাণ কম সেটি খুব ধীরে জমে বা দেরীতে জমে যেমনঃ সুন্দরবনের মধু, একক কালোজিরা ফুলের মধু ইত্যাদি।
মহান আল্লাহ তা‘আলা এমনভাবে প্রকৃতিকে সৃষ্টি করেছেন যে, প্রকৃতি সবসময় চায় ভারসাম্য রক্ষা করতে। আমাদের শরীরের কাজ করার জন্য প্রচুর গ্লুকোজ প্রয়োজন দিনের বেলা। শরীরের পেশী কোষ ও মস্তিষ্কের কাজ করতে যে শক্তির প্রয়োজন হয় তা সরবরাহ করে গ্লুকোজ। তাই, নিশ্চিন্তে জমে যাওয়া মধু খেতে পারেন।
প্রকৃতিতে যেটা যে অবস্থাতে থাকে সেটি সেই অবস্থাতেই গ্রহণ করা সবচেয়ে উত্তম। মধু বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো মধু জমে গেলে সেটি জমা অবস্থাতে খাওয়াই বেশি উপকারি আমাদের শরীরের জন্য। রুটির বা ব্রেডের সঙ্গে কৃত্রিম জ্যাম-জেলির পরিবর্তে জমে যাওয়া মধু খেতে পারেন। তবে চাইলেই জমা মধুও তরল করা সম্ভব । ৪০ ডিগ্রী সে. তাপমাত্রায় গরম পানিতে জমে যাওয়া মধু রাখলে বা দীর্ঘ সময় সূর্যের তাপে মধুর পাত্রটি রেখে দিলে জমে যাওয়া মধুটি পুনরায় তরলে পরিণত হবে।